লক্ষণ

হার্নিয়া কী, কেন হয় এবং কখন অপারেশন লাগে

হার্নিয়া মানে মাংসপেশির দেয়ালে একটি ফাঁক, যেখান দিয়ে ভেতরের অংশ বাইরে ঠেলে বেরিয়ে আসে।

চেম্বারে পেটের দেয়ালের মডেল দেখিয়ে চিকিৎসক হার্নিয়ার ফাঁকটি বুঝিয়ে দিচ্ছেন

হার্নিয়া আসলে কী

পেটের ভেতরের অঙ্গগুলো ধরে রাখে মাংসপেশি ও পর্দার একটি শক্ত দেয়াল। কোথাও যদি সেই দেয়ালে একটি দুর্বল জায়গা বা ফাঁক তৈরি হয়, তাহলে ভেতরের অংশ — সাধারণত চর্বি বা নাড়ির একটি অংশ — সেই ফাঁক দিয়ে বাইরের দিকে ঠেলে বেরিয়ে আসে।

বাইরে থেকে এটিকে দেখা যায় একটি ফোলা বা চাকা হিসেবে। এটিই হার্নিয়া।

চেনার সবচেয়ে পরিচিত ধরনটি হলো — দাঁড়ালে, কাশলে বা ভারী কিছু তুললে ফোলাটি স্পষ্ট হয়, আর শুয়ে পড়লে অনেক সময় নিজে থেকেই ভেতরে ঢুকে যায়।

সবচেয়ে জরুরি কথাটি

হার্নিয়া মানে দেয়ালে একটি ফাঁক। ফাঁকটি ওষুধে বন্ধ হয় না, ব্যায়ামে বন্ধ হয় না, বেল্ট পরে বন্ধ হয় না। বেল্ট বড়জোর ফোলাটি কিছুক্ষণ ঠেলে রাখে — ফাঁকটি যেখানে ছিল সেখানেই থাকে। একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো অস্ত্রোপচার করে ফাঁকটি মেরামত করা।

কেন হয়

হার্নিয়া হওয়ার পেছনে সাধারণত দুটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করে — একটি দুর্বল জায়গা, আর সেই জায়গায় বারবার পড়া চাপ।

  • জন্মগত দুর্বলতা। কুঁচকির অংশে জন্ম থেকেই একটি স্বাভাবিক দুর্বল পথ থাকে। কারও কারও ক্ষেত্রে সেটি পুরোপুরি বন্ধ হয় না।
  • আগের অপারেশনের কাটা জায়গা। পুরোনো ক্ষতস্থানের দেয়াল তুলনামূলক দুর্বল হয়। সেখানে হার্নিয়া হলে বলে ইনসিশনাল হার্নিয়া।
  • দীর্ঘমেয়াদি কাশি। ধূমপায়ী বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের ক্ষেত্রে বারবার কাশির চাপ।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য। প্রতিদিন পায়খানার সময় জোর দেওয়া।
  • প্রস্রাবে চাপ দেওয়া। বয়স্ক পুরুষদের প্রোস্টেট বড় হলে।
  • ভারী ওজন তোলা। বিশেষ করে ভুল ভঙ্গিতে, নিয়মিত।
  • অতিরিক্ত ওজন ও গর্ভাবস্থা। পেটের ভেতরের চাপ বাড়িয়ে দেয়।
  • বয়স। বয়সের সঙ্গে মাংসপেশির দেয়াল স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল হয়।

কোন কোন ধরন আছে

অবস্থান অনুযায়ী হার্নিয়ার আলাদা নাম হয়:

ধরনকোথায় হয়
ইনগুইনালকুঁচকিতে — সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে পুরুষদের
আমবিলিক্যালনাভিতে বা নাভির চারপাশে
ইনসিশনালআগের অপারেশনের কাটা জায়গায়
ফিমোরালকুঁচকির নিচের দিকে — নারীদের বেশি, আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি
হায়াটালবুকের পর্দার ফাঁক দিয়ে পাকস্থলীর উপরের অংশ
এপিগ্যাস্ট্রিকনাভি ও বুকের হাড়ের মাঝখানে

একই ব্যক্তির একাধিক জায়গায় হার্নিয়া থাকতে পারে, এবং দুই কুঁচকিতে একসঙ্গে থাকাও অস্বাভাবিক নয়।

কখন অপারেশন লাগে

সাধারণ নিয়ম হলো — হার্নিয়া ধরা পড়লে পরিকল্পনা করে অপারেশন করিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। কারণ সময়ের সঙ্গে ফাঁকটি বড় হয়, এবং বড় হার্নিয়ার মেরামত কঠিন হয়।

কিছু ক্ষেত্রে — যেমন খুব ছোট ও লক্ষণহীন হার্নিয়ায়, বা রোগীর শারীরিক অবস্থা অপারেশনের উপযুক্ত না হলে — চিকিৎসক অপেক্ষা করতে বলতে পারেন। সেটি ব্যক্তিভেদে সিদ্ধান্ত।

তবে একটি অবস্থায় কোনো অপেক্ষা নেই।

এটি জরুরি অবস্থা — সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান
  • ফোলাটি হঠাৎ শক্ত হয়ে গেছে এবং চাপ দিলে ভেতরে ঢুকছে না
  • জায়গাটিতে তীব্র ব্যথা, লাল হয়ে যাওয়া বা গরম লাগা
  • সঙ্গে বমি ও পেট ফেঁপে যাওয়া
  • পায়খানা ও বাতাস বন্ধ হয়ে যাওয়া

এর মানে হতে পারে নাড়ির একটি অংশ ফাঁকের মধ্যে আটকে গেছে এবং তাতে রক্ত চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘণ্টার হিসাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

অপারেশন কীভাবে হয়

আধুনিক হার্নিয়া মেরামতে প্রায় সবসময়ই একটি জালের মতো মেশ ব্যবহার করা হয়। ফাঁকটি শুধু সেলাই করে টেনে বন্ধ করলে সেলাইয়ের জায়গায় টান পড়ে এবং আবার ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। মেশ চাপটিকে ছড়িয়ে দেয়।

সময়ের সঙ্গে আপনার নিজের টিস্যু মেশের ভেতর দিয়ে বেড়ে ওঠে — সেটিই মেরামতটিকে শক্ত করে।

অপারেশন দুইভাবে করা যায় — খোলা পদ্ধতিতে, অথবা দূরবীন (ল্যাপারোস্কোপিক) পদ্ধতিতে। কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত তা নির্ভর করে হার্নিয়ার ধরন, আকার, এক পাশে না দুই পাশে, আগে অপারেশন হয়েছে কি না এবং আপনার শারীরিক অবস্থার উপর।

Common questions

হার্নিয়া কি ওষুধে বা ব্যায়ামে ভালো হয়?

না। হার্নিয়া মানে মাংসপেশির দেয়ালে একটি ফাঁক, আর ফাঁক নিজে থেকে জোড়া লাগে না। ব্যায়ামে আশপাশের পেশি শক্ত হতে পারে, কিন্তু ফাঁকটি থেকেই যায়।

হার্নিয়া বেল্ট পরলে কি চলবে?

বেল্ট সাময়িকভাবে ফোলাটি ঠেলে রাখতে পারে, কিন্তু রোগ সারায় না। কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনের জন্য অপেক্ষা করার সময় সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা হয় — স্থায়ী সমাধান হিসেবে নয়।

ব্যথা নেই, শুধু ফোলা — তাহলেও কি অপারেশন লাগবে?

ব্যথাহীন হার্নিয়াও আটকে যেতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিকল্পনা করে অপারেশন করিয়ে নেওয়াই ভালো, কারণ ছোট থাকতে মেরামত সহজ। তবে সিদ্ধান্তটি আপনার বয়স ও শারীরিক অবস্থা দেখে নেওয়া হয়।

অপারেশনের পর কি আবার হার্নিয়া হতে পারে?

হতে পারে, তবে মেশ ব্যবহারে আশঙ্কা অনেক কম। ধূমপান, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ওজন ও খুব তাড়াতাড়ি ভারী কাজে ফেরা — এগুলো আবার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

হার্নিয়ার অপারেশনের পর কতদিন ভারী কাজ বন্ধ রাখতে হয়?

এটি হার্নিয়ার ধরন, আকার ও পদ্ধতির উপর নির্ভর করে। হাঁটাচলা সাধারণত দ্রুত শুরু করতে বলা হয়, কিন্তু ভারী ওজন তোলা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয় — সময়টি আপনার ছাড়পত্রে লিখে দেওয়া হবে।

মেশ কি শরীরে সমস্যা করে?

হার্নিয়া মেরামতের মেশ কয়েক দশক ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয় না। এটি স্থায়ীভাবে থেকে যায়, বিমানবন্দরের স্ক্যানারে ধরা পড়ে না, এবং এমআরআই করাতেও বাধা দেয় না।

This article is general patient information and does not replace a consultation. If your symptoms are severe or getting worse, please see a doctor rather than relying on it.

Have a question about this?

Bring your reports to a consultation — often one visit settles it.